
বুক রিভিউ
“পাক সার জমিন সাদ বাদ “
- হুমায়ুন আজাদ
বইটা একটা ফিকশনাল নোভেল, কিন্তু এখানটায় জামাঈ জিহাদীদের যে আইডিয়ালজি তুলে ধরা হয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। একজন ধর্মীয় গোড়ামিতে, একগুঁয়েমিতে আপাদমস্তক জড়িয়ে থাকা মানুষের পার্স্পেক্টিভ থেকে বর্ণিত ধর্মীয় বিদ্বেষের কাহিনী। এমন এক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি ধর্মীয় পার্টির চোখে নারীরা যৌনবস্তু, তাদের সম্পদ,সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মালাউন ট্যাগেই পরিচিত । এই পার্টির কাছে মালাউনরা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। তাদের কতল করতে হবে, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে হবে, সম্পদ লুট করতে হবে এই ছিল তাদের নীতি। এমনকি কোনো স্থানের নাম সনাতনী থাকলে তার এরাবিক নাম দিয়ে তাকে পাক স্তান করতে হবে।
তাদের প্রতিটি অন্যায় কাজ ভ্যালিড করার জন্য তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। ফর এক্সাম্পল -জিহাদের পরে মালাউন মেয়ে রেইপ করে দিলকে ঠান্ডা করতে হয়, এটা তাদের উপর বর্ষিত আল্লাহর রহমত।
যাই হোক কাজী নজরুল ইসলামের একটা কবিতাংশ মনে পড়ছে, ভাবার্থ এমন যে “সবকিছুর বিচারালয় মানুষের মন।মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা এই মন। “
মানুষের মন বলে দেয় সে ঠিক করছে না ভুল করছে। দিনের পর পর দিন সাবকনশাসলি সিগনাল আসতেই থাকে, মানব সন্তান যদিও অস্বীকার করেই যায়, করেই যায়, করেই যায়!
কিন্তু সেটা আর কতদিন পারে, মিথ্যার ভারে কি দমবন্ধ হয়ে আসে না??
হুমায়ুন আজাদের এই লেখাটা বুদ্ধিদীপ্ত, রগরগে এবং নিঃসন্দেহে সাহসী। কখনো কখনো কোনো মোমেন্টামে একটা মানুষের মাথায় ইতিবাচক আর নেতিবাচক ভাবনাগুলোর যে দ্বন্দ সেটা তিনি লিখে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। বিবেক নাড়া দিলে মানুষ যে কাউন্টার লজিক দিয়ে নিজের কাজকে জাস্টিফাই করে সেটাও দেখানো হয়েছে স্পষ্টভাবেই।







