সুখ

আজ অনেকদিন পর পাশের বিল্ডিংয়ের কার্নিশে একটা দোয়েল পাখি দেখলাম। ইদানীং একটা অভ্যাস হয়েছে, রোজ বিকেলে ছাদে যেয়ে এক দেড় ঘন্টার মত বই পড়া। পাশের বিল্ডিং এর একটা পিচ্চি জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকে, আমি তাকালেই সে মাথা নিচু করে ফেলছে। অঘোষিত এই লুকোচুরি খেলা রোজ হয়। আমার বৈচিত্রপূর্ণ জীবন আজকাল এত সরল হয়ে গেছে। রোজকার একই রুটিন। ঘুম থেকে ওঠা, ছাদে যেয়ে বই পড়া, বাসায় এসে ইফতারে সাহায্য করা, নামাজ, ইফতারের পর লুডু খেলা, এরপর দুইটা মুভি দেখা। মধ্যরাতে আঁকতে বসা, সেহরি খেয়ে বই পড়া,কোর্সের ভিডিও দেখে ঘুমিয়ে যাওয়া। এইযে নারকেল গাছের ফাঁকে আমি গত একমাস ধরে একটা কাককে ক্রমে পূর্ণাঙ্গ একটা বাসা বানাতে দেখলাম, ছাদের দক্ষিণ কোণ দিয়ে গাছের পাতার ফাঁকে হাওয়ারা এসে জীবনানন্দের হাওয়ার রাত কবিতার কথা মনে করিয়ে দেয়। অই সময়টায় আমার কেবল মনে হতে থাকে এত সুখী হওয়ার মত কি করেছি, এই সুখ থাকবে? আমি এমনভাবে আরো সহস্রদিন কি পারব এমন নির্লিপ্ত কিছু সময় কাটাতে? প্রতিটা ইভেন্টের অভিশাপ / আশীর্বাদ দুইই থাকে। হঠাৎ আজকে মনে হলো যে সুখ হারানোর ভয় করছি, হারিয়ে গেলেও তা অন্য রূপে ফিরে আসে ঠিকই!

Leave a comment