
বেলা তারের ৭ ঘন্টার দীর্ঘ মুভি স্যাটানট্যাঙ্গো দেখে শেষ করলাম। অনেকটা প্রায় এক বসায়। কিন্তু এটা কেবল একটা মুভি দেখা ছিল না, ইট ওয়াজ লিভিং ইন ইট। ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী পড়তে পড়তে আমি যেমন সেই বৃদ্ধ লোককে অনুধাবন করতে পারছিলাম। এখানেও বৃদ্ধ ডাক্তারের স্লো লিভিং কোনো বিরতি ছাড়াই দেখতে পারছিলাম। যেমন জীবনে আমরা থাকি না, তেমন জীবন আমাদের কৌতূহল জাগায় বেশি। আমার মুভিটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল মাসের পর মাস বৃষ্টি হতে থাকা ধূ ধূ প্রান্তরের কয়েক মাইলের মধ্যে কেবল একটা বাড়িতে বাস করলে কেমন থাকতাম? বৃদ্ধের মতো প্রাণহীন, শক্তিহীন, বয়সের ভাড়ে নুয়ে চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে সারাদিন কি করে সময় কাটতো আমার? অনেক বই পড়তাম? লিখতাম?
এই দুটো জিনিসের কখনোই এনাফ সময় হয় না বলে এমন জীবন অনেক টানে আমাকে। মুভিটা একইসাথে ইন্সপায়ারিং, ডিস্টার্বিং, ডিপ্রেসিং মাস্টারফুল। I’m feeling grateful that I’ve watched this. It gave me peace…
একটা প্রায় নিঃশেষ হওয়া গ্রাম, সেখানকার মানুষের আশাহীন জীবন, বিরতিহীন বৃষ্টি আর রুক্ষ প্রকৃতি! বেলা তারের সিনেমায় প্রায়ই প্রকৃতির সাথে মানুষের অস্তিত্বের স্ট্রাগলের দৃশ্যগুলো দেখা যায়। নিজেকে তখন ভাগ্যবান মনে হয় যে অন্তত প্রকৃতির কাছে হেরে যেতে হচ্ছে না। বলা যায় ভঙ্গুর মানবিক সমাজের একরকম স্লো বার্নিং রেভ্যুলেশন দেখানো হয়েছে এই মুভিতে। মুভির raw আর দীর্ঘ শটসগুলো ধৈর্য্যচুতি ঘটাতে পারে, আবার একইসাথে প্রচন্ডভাবে মনোযোগ ধরে রাখার মতোও শক্তিশালী। এই দীর্ঘ শটস তারকোভস্কি ছাড়া আর কারো সিনেমায় তেমন চোখে পড়েনি। এই লং টেইকগুলোর জন্যই হয়তো মুভিটাতে বাস করা গেছে ৭ ঘন্টার মতো। একটা ঘটনাকে অনেকগুলো পারসেপশনে দেখানো হয়েছে। তবু এটা টের পাবার উপায় নেই। আমাদের মনে হতে পারে আমরা স্টোরি প্রসিড করছি, কিন্তু একই দৃশ্যে ফিরে ফিরে আসছি অন্য কোনোভাবে!
.